উপন্যাস : গিরগিটির প্রেমে মায়াবতী পাগল
লিখিকা : সুমাইয়া শেখ
পর্ব : ২
সুমাইয়া মাহিম চৌধুরী কে খুজতে চলে গেলো
কিন্তু আরাফ চৌধুরী তা আগে থেকে টের পেয়ে যায়, আর মাহিম চৌধুরী কে দেশের থেকে সরিয়ে দেয়, সুমাইয়া তার দলের লোকেদের কে বললো ওর কোন খোজ পেয়েছিস,
তারা বলে উঠললো নাহ এখনো পাইনি কিন্তু খোঁজ নিতেছি, সুমাইয়া রাগান্বিত হয়ে বললো,
তোরা আমার, সাউ*য়ার খোঁজ নিতেছোস,
সুমাইয়া আরো রাগান্বিত হয়ে বললো
আমার ২৪ ঘন্টার মধ্যে চাই,
না হলে তোদের এক টা ও জীবিত থাকবি নাহ
ঠিক ওই মুহূর্তে পিছন থেকে আয়রা বলে উঠলো
মাহিম পালিয়ে গেছে,
সুমাইয়া ভ্রু কুঁচকে পিছনের দিকে তাকিয়ে বললো
কোথায় গেছে,,!
আয়রা বললে উঠলো ও বাবা অগে থেকে টের পেয়ে গেছে তাই ওকে সরিয়ে দিছে দেশের বাহিরে,
সুমাইয়া রাগে তার হাত টি মুথ করে সজোরে পাশে থাকা দেওয়ালে এক টা গুসি দিলো বললো ডেভিলস,,,,
তোদের দিয়ে কোন কাজ হবে নাহ,,
সুমাইয়া লম্বা একটি শ্বাস নিয়ে,,
তার পকেট থেকে এক টি সিগারেট বের করে
লম্বা একটি টান দিয়ে, উপরের দিকে ধোঁয়া টি ছাড়তে ছাড়তে বললো যাবেই বা আর কই,
ঠিক এক দিন, নাহ এক দিন দড়া দিতেই হবে,
সুমাইয়ার গালের কোনে এক ফুটা হাসি,
সেটা কোন খুশির নয় সেটা হলো,
ধ্বংসের হাসি,
সুমাইয়া ওই খান থেকে বাসায় চলে আসলো,
এর পর সুমাইয়া ফ্রেশ হয়ে,
বিছানায় গিয়ে শরীর টি ছেড়ে শুয়ে পরলো,
এরি মধ্যে সুমাইয়া ফোনে কল বাজলো,
সুমাইয়া ফোন টা নিয়ে দেখলো সেই নাম্বার টি যে টা দিয়ে কিছুক্ষণ আগে তার চাচা কল দিয়ে ছিলো
সুমাইয়া কল টি দরে কিছু বলতেই যাবে তার আগে ওই পাশ থেকে ভেসে আসলো পালিয়েছে,
সুমাইয়া একটু খানি অবাক ভঙ্গিতে বলল
তুমি কিভাবে যানলে,
সে বললে উঠলো দেশের বাহিরে থাকি বললে কী কিছু জানবো নাহ,
সুমাইয়া কিছু বললো নাহ শুধু চুপ করে তার চাচার কথা শুনছে,
পিয়াস সওদাগর বলে উঠলো,
পিউ আর তোর চাচি কে দেখে রাখিস,
আরাফ চৌধুরী কিন্তু ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নাহ,
তার সাথে অনেক আগেই পুরনো একটি বিষয় নিয়ে শত্রু আমি রয়েছে,
আরাফ চৌধুরী তার শোধ কিন্তু যে কোন মূলে নিবে,
সুমাইয়া বলে উঠলো,
ও, নিয়ে তুমি চিন্তা করো নাহ,
ওর মতো হাজার চৌধুরী দেখছি,
কোন টাও, বা"ল লো ছিড়তে পারে নাই,,!
পিয়াস সওদাগর বলো, তুই আসিস দেখেই তো,
নিশ্চিন্তে আছি,,!
তবুও বিপদ তো আর বলে কয়ে আসে নাহ,,!
এটা বলার পর বললো আচ্ছা আল্লাহ হাফেজ,,!
আগামী মাস বাড়ি আসবো তার পর কিছু কথা আছে তোর সাথে,,!
সুমাইয়া বললো ওকে আল্লাহ হাফেজ,,!
নিজের খেয়াল রেখো,,!
এই কথা বলে ফোন টা রেখে দিয়ে,,!
বিছানায় বসে লম্বা একটি শ্বাস নিল,,!
হায় তুলতে তুলতে রুমের বাহিরে গেলো,,!
এর নিচে গিয়ে কিচেন রুম থেকে পানি খেতে যাবে ঠিক ওই সময় মনে পড়লো পিচ্চি টার তো সামনে পরীক্ষা আমি তো ওর রং পেন্সিল এনেছি ওই টা কি আমি ওকে দিছি,,!
সুমাইয়া ভাবতে ভাবতে আবার উপরে চলে গেল
জাওয়ার পর টেবিলের বক্সটি খুলল খুলে দেখে যে এখোনো তার জিনিস গুলো দেওয়া হয় নাই ,,!
তাই সুমাইয়া রং পেন্সিল | গুলো নিয়ে ওর বাড়ির দিকে হাঁটা দিলো,,!
যেতে যেতে বললো,,!
কিছু নিয়ে যাই সাকালে তো অনেক বকা দিছি নাহ জানি কি করতেছে,,!
এই কথা বললে দোকান থেকে মজা কিনে নিয়ে নিলো,,!
ও যা যা পছন্দ করে তা তা নিয়ে নিলো,
এর পর বললো চকলেট নিবে কি নিবে নাহ,,!
সকালে তো চকলেট খাইছে এখন নেওয়ার কোন দরকার নাই,,!
এর থেকে ভালো অন্য কিছু নিয়ে যাই,,!
পরে পিউর জন্য মজা আর কাকির জন্য চিকেন বল নিয়ে বাসায় গেলো,
যাওয়ার পর,
সুমাইয়া চাচি কে বললো, পিচ্চি টা কই,
নুরজাহান বলে উঠলো ওর ঘরে,
সুমাইয়া তার চাচির হাতে,
চিকেন বল দিয়ে সোজা পুচে পিউ রুমের দিকে চলে গেলো,
গিয়ে দেখে পুচে পিউ,
ফোন দেখতেছে,,!
সুমাইয়া এক টা কাশি দিয়ে বললো সারাদিন ফোন টিপা টিপি পড়াশোনা,,!
নাই নাকি,,!
পিউ সুমাইয়ার কে দেখে বললো অপ্পা তুমি,,!
সুমাইয়া বললো হুম কেনো,,!
পিউ বললো বসো বসো,,!
সুমাইয়া বললো তোর তো সামনে পরিক্ষা,,!
তাই তোর পরিক্ষার জন্য সব নিয়া আসছি যা যা লাগবে তোর,,!
আর কিছু লাগলে বলিস নিয়ে আসবোনি,,!
পিউ মুচকি হাসি দিয়ে চোখ গুলো মিট মিট করে সুমাইয়া দিকে তাকালো,
সুমাইয়া এক ঠোঁট উরের দিকে নিয়ে বললো,,!
বাচ্চা তো বাচ্চা ই হয় ,,!
পিউ বেটকায়া দিলো তার কথা শুনে,,!
সুমাইয়া ওর মুখের দিকে তাকায়া বললো
মুখ বেঁকানো মতো কিছু কই নাই,
সুমাইয়ার হাতে থাকা মজার টি পুচে পিউর দিকে বাড়িয়ে দিলো,
দিয়ে বললো,
এই নে এটা তোর জন্য,
পিউ মজা দেখে এক জটকায় ওর হাত থেকে প্যাকেটটা নিয়ে নিলো,,!
সুমাইয়া ওর এই কান্ড দেখে মুচকি এক টা হাসি দিলো,, !
সুমাইয়া চলে যাবে এই সময় পিউ বলে উঠলো,,!
আচ্ছা অপ্পা তুমি বিয়ে করবা কবে,,!
সুমাইয়া হতভম্ব হয়ে গেলো পিউ যে এই রকম এক টা প্রশ্ন করবে ভাবতেও পারে নাই,,!
সুমাইয়া চুপ করে থেকে ভাবতেছে সত্যি তো আমার জীবন কি এভাবেই চলবে নাকি আমার জীবনে কেউ আসবে,
সুমাইয়া আবার ভেবে উঠলো আমি তো টম বয় (Tom boy)
আমার আবার কিসের জীবন,
এক টা মেয়ে হয়ে অন্য আরেক টা মেয়ের প্রতি আসক্ত, লোকে কী বলবে,
আর আমাদের লেসবিয়ান দেরিবা কিসের জীবন,
আমাদের এই রকম জীবন কে লোকে ছি ছি করে ঘৃণ্য করে অথচ আমরাও যে মানুষ এটা কী তারা একবারো মনে করে তারা তো নিজের মতো সবাইকে ভাবে,
কাউকে কিছু বললে বলে তোমাদের আবেগ তোমাদের কাছে রাখো,
অথচ এই আবেগি আল্লাহ লেসবিয়ান জীবনে বেশি দিয়েছে,
আল্লাহ বানাইলো নারী করে অনূভুতি দিলো পুরুষের যদি এই সম্পর্ক টা হারামি হয়, তাহলে এই অনুভূতি দিয়ে কেন সৃষ্টি করলো,
আল্লাহ কেন এই সম্পর্ক থেকে বাঁচার কোন আমল দেন নাই নিজ ইচ্ছে তো আর লেসবিয়ান হই নাই,
আমরা লেসবিয়ান রা কি এতো টাই খারাপ যে মানুষ আমাদের কে দেখে ছি ছি করবে,,
এ কথা ভাবতে ভাবতে সুমাইয়ার চোখের কোনে পানি এসে পরে,,!
পিউ বুঝতে পেরে, বলে সরি, অপ্পা আমি বুঝতে পারি নাই তুমি যে কান্না করে দিবা,,! বেরি বেরি সরি,
সুমাইয়া মুচকি হাসি দিয়ে বললো দুর পাগলি,,!
কে বললে আমি কান্না করতেছি কখনো কি দেখছোস তোর অপ্পা কান্না করতে তোর অপ্পা
অনেক স্ট্রং তোর অপ্পা কখনোই কান্না করে নাহ,
এই কথা বলে সুমাইয়া পিউর দিকে এক টা হাসি দিলো,,!
পিউ, চিপসের প্যাকেট টি পাশে রেখে সুমাইয়া কে জড়িয়ে দরলো, সুমাইয়া একটু হতভম্ব হয়ে গেলো,
সুমাইয়া বলে উঠলো কি হইছে,
এইভাবে জড়িয়ে দরছোস কেন,,!
সুমাইয়া কথার উওরে পিউ জবাব দিলো
এক টা কথা বললো রাগ করবা নাহ, তো
আর কাউকে বলবা নাহ তো,,!
সুমাইয়া বলে উঠলো কি কথা বল,,!
পিউ বললো নাহ আগে পিংকি প্রমিত করো তার পর বলবো,!
সুমাইয়া বললো ওকে পিংকি প্রমিস এখন বল,,!
পিউ বললো আমার নাহ এক জন কে অনেক ভালো লাগে মানে আমি ওকে ভালোবাসি,,!
পিউর এই কথা শুনে সুমাইয়া পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়,,!
তবুও নিজের সামলিয়ে বললো what the f***
মানে কী,
আর তোর বয়স কতো হু এই বয়সে এতো পেকেগেছোস,
আর ভালোবাসা মানে কী জানিস তুই,,!
পিউ ছল ছল চোখে তাকিয়ে বললো,,!
ভালোবাসা বুঝি নাহ কিন্তু তাকে অনেক ভালো লাগে,,!
সুমাইয়া রাগান্বিত কন্ঠে বললো ছেলে টা কে,,!
আর কি করে,,!
পিউ বললো তুমি ওকে ভালোভাবেই চিলো,
সুমাইয়া what
I know 'em,
পিউ বললো ইয়া জী অপ্পা তুমি ভালোভাবেই চিনো,
এরি মধ্যে পুচে পিউর মা নুরজাহান সওদাগর চলে এলো,
এসে বললো পিউ,
পিউ উওরে বললো, হুম মা বলো,
নুরজাহান বললো,,!
তোমার পাপ্পা কল দিছে তোমার সাথে কথা বলবে
পাপ্পার কথা শুনে পিউ এক লাফে,
বিছানা থেকে উথে ফোন নিয়ে বারান্দায় চলে যায়,,
সুমাইয়া পিউর চলে যাওয়া দেখে ওও, ওর চলে যেতে নেয় পিছন থেকে, নুরজাহান বললো চলে জাস,,
সুমাইয়া : হুম
নুরজাহান : খাবার খেয়ে যা,
সুমাইয়া : নাহ এখন খাবার খেতে মন চাইতাছে নাহ
নুরজাহান : কেনো কি হইছে
সুমাইয়া : এমনি কিছু হয় নাই,
এই কথা বলে সুমাইয়া বাসা থেকে বের হয়ে গেলো,
বাসা থেকে বের হয়ে এক টা সিগারেট জ্বালালো,
সুমাইয়া সিগারেট খেতে খেতে বাসায় চলে গেলো,
বাসায় গিয়ে এ পাশ ও পাশ হতেই আছে।
সুমাইয়ার কানে শুধু এক টা শব্দই ভাসতেছে,
ও কাউকে ভালোবাসে,
ভাবতে ভাবতে রাত হয়ে গেলো,
এরি মধ্যে পিউ বাসায় আসলো
পিউ বললো অপ্পা আজ কিছু ইউনিক জিনিস ট্রাই করো,
সুমাইয়া বলতেই জাবে যে তুই আসলে কাকে ভালোবাসোত,
পরক্ষণে মনে এলো ও কাকে ভালোবাসবে নাহ বাসবে ,,
সে টা যেনে আমার কী আর আমি বা র জন্য এতো ভাবছি কেন,
এটা বলে নিজের মন কে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করলো কিন্তু সান্ত্বনা দিতে পারলো নাহ তবুও
নিজেকে সামলিয়ে বললো,
কি খাবি আজকে,
পিউ বললো,
বাকরখানি,
আর মালায়
আর : লাডু
সুমাইয়া : আচ্ছা তুই বস আমি ফোন দিয়ে বলে দিতেছি
পিউ সোফা উপর বসে টিভি টা অন করে
হানি বানি কার্টুন দেখতেছে সুমাইয়া ফোন দিয়ে বলে দিছে যেনো পাঠায় দেয়,
কার্টুনের শব্দ পেয় এক টা ডিগবাজি দিয়ে সোজা,
সোফা উপর গিয়ে বসলো
OMG
My favourite cartoon,,
উম্মা হানি আর বানি,
চলবে,,,!
